spot_img

১৪ বছর পর তেল রপ্তানি শুরু করল সিরিয়া

অবশ্যই পরুন

দীর্ঘ ১৪ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে সিরিয়া। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় তর্তুস বন্দর থেকে ৬ লাখ ব্যারেল ভারী অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

২০১০ সালে সিরিয়া প্রতিদিন গড়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল (বিপিডি) তেল রপ্তানি করত। কিন্তু এক বছর পর স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলে তা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয় এবং প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সেই যুদ্ধে দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামো, বিশেষত অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, মারাত্মকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। তারা ক্ষমতায় এসেই সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়।

সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তেল ও গ্যাসবিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক রিয়াদ আল-জৌবাসি রয়টার্সকে বলেন, এ চালানটি বি সার্ভ এনার্জি নামে একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। জানা গেছে, বি সার্ভ-এর সঙ্গে বৈশ্বিক তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বিবি এনার্জি-র সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিবি এনার্জি মন্তব্যের জন্য অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়, তেল পরিবহনের জন্য “নিসসস ক্রিস্টিয়ানা” নামের ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হয়েছে। আল-জৌবাসি আরও বলেন, তেলটি সিরিয়ার বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে উত্তোলন করা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট করে কোনো ক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করেননি।

সিরিয়ার অধিকাংশ তেলক্ষেত্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, যা কুর্দি নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ওই কর্তৃপক্ষ দামেস্কে কেন্দ্রীয় সরকারকে তেল সরবরাহ শুরু করে। তবে সংখ্যালঘু, বিশেষত কুর্দিদের অধিকার ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে তেলক্ষেত্র বহুবার হাতবদল হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা বৈধ আমদানি-রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি করে। আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরও কয়েক মাস সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল, যার ফলে নতুন প্রশাসনের জন্য জ্বালানি আমদানি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

তবে চলতি বছরের জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এর পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশটির তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নেয়।

অন্যদিকে, সিরিয়া তর্তুস বন্দরে একটি বহুমুখী টার্মিনাল উন্নয়ন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর সঙ্গে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর আগে বাশার আল-আসাদের আমলে বন্দরের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এক রুশ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে নতুন সরকার।

সূত্র : আল আরাবিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের আইনগত বাধা নেই: আলী রীয়াজ

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ