যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং আরও ৮০ জন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করাকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছে স্পেন। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিধিত্ব রক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার (৩১ আগস্ট) কোপেনহেগেনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি বা মাহমুদ আব্বাস অংশ নিতে না পারাটা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘে তাদের সুরক্ষা ও বিশেষ মর্যাদা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত এটি রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা।’
আলবারেস বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বিষয়ে শুধু বিবৃতি আর যথেষ্ট নয়, এখন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।
স্পেনের প্রস্তাবিত একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে আলবারেস বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেবল মানবাধিকার বিবেচনায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারে। এবং যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক প্রমাণ থাকে, যেমনটি কমিশনের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তাহলে আমাদের অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে। এখন যুদ্ধের সময় নয়, এখন হলো যুদ্ধ বন্ধের জন্য এবং গাজায় ইসরায়েলি অবরোধে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ভাঙার জন্য কাজ করার সময়।’
তিনি জানান, স্পেন চার দফা পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে:
১. ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের প্রতি অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
২. যে কেউ দুই-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান ব্যর্থ করতে চায়, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও তালিকা সম্প্রসারণ।
৩. ফিলিস্তিনি জাতীয় কর্তৃপক্ষকে আর্থিক সহায়তা জোরদার করা।
৪. আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজি) সব রায় এবং পরামর্শমূলক মতামত বাস্তবায়ন করা, যেমন—অবৈধ বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ এবং ইইউ-ইসরায়েল চুক্তি পুরোপুরি স্থগিত করা।
আলবারেস বলেন, ‘আমরা যে প্রস্তাব দিচ্ছি, তা কোনো অসাধারণ কিছু নয়। এটি শুধুই ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার বিষয়।’
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি