spot_img

বিক্ষোভে উত্তাল ইন্দোনেশিয়া, সরকারি ভবনে আগুনে নিহত ৩

অবশ্যই পরুন

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে একটি আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে দেশটির বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। এমন সময় এ ঘটনা ঘটলো যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী ম্যাকাসারে (যা রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিমি পূর্বে অবস্থিত) অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

ম্যাকাসার সিটি কাউন্সিলের সচিব রাহমাত ম্যাপাতোবা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, “গত রাতের ঘটনায় তিনজন মারা গেছেন। দুইজন ঘটনাস্থলেই, একজন হাসপাতালে মারা যান। তারা আগুন লাগা ভবনের ভেতরে আটকে পড়েছিলেন।”

তিনি বিক্ষোভকারীদের ভবনটি দখল করে আগুন লাগানোর জন্য দায়ী করেন।

ইন্দোনেশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, নিহতরা আগুনের মধ্যে আটকে পড়েছিলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মতে, আহতদের মধ্যে দুইজন ভবন থেকে লাফ দেওয়ার সময় আহত হয়েছেন।

দগ্ধদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আগুন ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন বড় শহর, এমনকি রাজধানী জাকার্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এর সূত্রপাত একটি ভিডিওর মাধ্যমে, যেখানে দেখা যায় এক মোটরসাইকেল চালককে পুলিশের একটি ট্যাকটিক্যাল যান চাপা দিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিবাদেই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিশেষ করে কম মজুরি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিলাসবহুল সুবিধা নিয়ে ক্ষোভ থেকে এ বিক্ষোভ।

পশ্চিম জাভার রাজধানী বানডুং-এ একটি ব্যাংক ও একটি রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক ভবনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় শুক্রবারের বিক্ষোভে।

জাকার্তায় শত শত বিক্ষোভকারী অভিজাত প্যারামিলিটারি পুলিশ ইউনিট “মোবাইল ব্রিগেড কর্পস (ব্রিমোব)” সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হন। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা মোটরসাইকেল চালক আফফান কুনিয়াওয়ানকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে।

বিক্ষোভকারীরা পাথর ও আতশবাজি ছুঁড়লে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে। অনেকে গেট ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি হয়।

শনিবার একটি স্থানীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যম জানায়, তরুণ বিক্ষোভকারীরা জাকার্তায় ব্রিমোব সদর দপ্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চালক নিহতের ঘটনায় সাতজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যম “টেম্পো” অনুসারে, সংঘর্ষে আহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

এই বিক্ষোভগুলো প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর শাসনামলে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং সহিংস আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই এটি তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাবোয়ো শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, নিহত ডেলিভারি চালকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, এসব বিক্ষোভ “ধ্বংসাত্মক ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে” পরিণত হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন, কোনো শক্তি নেই প্রতিহত করার: প্রেস সচিব

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা আবারও জানালেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, নির্বাচন...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ