যুক্তরাষ্ট্রের পপ তারকা লেডি গাগার এক বিনামূল্যের কনসার্ট ঘিরে রিও ডি জেনেইরোর বিখ্যাত কোপাকাবানা সৈকতে শনিবার সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকেন তার অনুরাগীরা। ‘লিটল মনস্টার’ নামে পরিচিত গাগার ভক্তদের কেউ কেউ ভোরেই এসে লাইনে দাঁড়ান। বৃহৎ এই আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে ৫ হাজার পুলিশ সদস্য, ড্রোন, নজরদারি ও ফেসিয়াল রিকগনিশন ক্যামেরা। এতো নিরাপত্তার মাঝেও ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর কোপাকাবানা সমুদ্রসৈকতের কনসার্টে সম্ভাব্য বোমা হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদনে অনুযায়ী, রিও ডি জেনেইরো রাজ্যের সিভিল পুলিশ জানিয়েছে, বিচার মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ২ পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় খ্যাতি অর্জনের লক্ষ্যে কনসার্টে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ব্যবহার করে হামলা চালানোই ছিলো তাদের পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ আরো জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও একজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তকে রিও গ্রান্দে ডো সুল রাজ্যে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে আটক করা হয়, আর কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীটি অনলাইনে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছিল। বিশেষ করে তাদের লক্ষ্য ছিলো শিশু, কিশোর-কিশোরী ও এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়।
তারা কিশোরদের মধ্যে চরমপন্থি মনোভাব গড়ে তোলার কাজেও লিপ্ত ছিল, যেখানে আত্ম-নির্যাতন ও সহিংসতাকে ‘চ্যালেঞ্জ’ ও ‘অন্তর্ভুক্তির মাধ্যম’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘অপারেশন ফেক মনস্টার’ নামক এই অভিযানে রিও ডি জেনেইরো, মাতো গ্রোসো, রিও গ্রান্দে ডো সুল ও সাও পাওলোতে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সামগ্রী জব্দ করা হয়। এই পরিকল্পনার পেছনে থাকা গোষ্ঠীটি নিজেদেরকে ‘লিটল মনস্টার’ বলে পরিচয় দিত, যা লেডি গাগার ভক্তদের একটি জনপ্রিয় নাম।
রিও শহরের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিনামূল্যের কনসার্টটি অর্থায়ন করেছে নগর কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠান থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করেছিলেন তারা।
কনসার্ট ঘিরে প্রায় ৫,০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি নিরাপত্তার খাতিরে ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র, ড্রোন ও ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মতো নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কনসার্ট চলাকালীন কিংবা তার আগে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হুমকির তথ্য দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছে লেডি গাগার টিম।
তারা জানান, ‘আমরা গণমাধ্যমে এই ঘটনার কথা প্রথম জানতে পারি।’
শেষবার ২০১২ সালে তার অষ্টম অ্যালবাম মেহেমের প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে ব্রাজিলে পারফর্ম করেছিলেন লেডি গাগা।