গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার শাসনের পালাবদলের পর দেশটির সামরিক বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। প্রতিবেশী তুরস্ক সিরিয়ার নতুন সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও এবং সিরিয়ার নতুন সরকারের হয়ে কাজ করলেও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবে না বলে জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের দ্বিতীয় দিন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, তুরস্ক সিরিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে কোন সংঘর্ষ চায় না, তবে সেখানে সামরিক স্থাপনায় বারবার ইসরায়েলি হামলার ফলে ইসলামিক স্টেটসহ শত্রুদের থেকে হুমকি প্রতিরোধ করতে নতুন সরকারের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
হাকান ফিদান বলেন, সিরিয়াকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের এই হামলা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তুলছে। আমরা সিরিয়ায় ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ না চাওয়ার কারণ সিরিয়া সিরিয়ানদের। এ সময় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকার তুরস্কের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেও জানান তিনি।
সিরিয়ার সঙ্গে ৯১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে তুরস্কের। দেশটির ক্ষমতায় আসা অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি তুরস্কের মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কারণ, আঙ্কারা বছরের পর বছর ধরে যে বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, তুরস্ক সিরিয়াকে তুর্কি আশ্রিত অঞ্চলে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এরই প্রেক্ষিতে সিরিয়ার সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য তুরস্কের পরিকল্পনাগুলো সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বাড়াতে ইসরাইলকে প্ররোচিত করছে কিনা এমন প্রশ্নে ফিদান বলেছেন, আঙ্কারা ইসলামিক স্টেটের পুনরুত্থান রোধ করতে এবং নিষিদ্ধ কুর্দিশ ওয়ার্কার্স পার্টিসহ (পিকেকে) বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সিরিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
সেই প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলকে আবার বিশৃঙ্খলার দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর আগে ন্যাটো সদস্যভুক্ত তুরস্ক ২০২৩ সাল থেকে গাজায় হামলার জন্য ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করে আসছে।
দেশটি জানায়, তারা সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক আদালতে একটি মামলার আবেদন করেছে।