সম্প্রতি ইকুয়েডরের গবেষকেরা ব্যাঙের নতুন এক প্রজাতি আবিষ্কার করেছেন গবেষকরা। আর সেই প্রজাতির নাম নিয়ে চলছে আলোচনা। কারণ বিশ্ব জনপ্রিয় অভিনেতার নামেই দেয়া হয়েছে ব্যাঙের নতুন প্রজাতিটির নাম। ডেইলিমেইলের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও এবার এক বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন। ইকুয়েডরের গবেষকেরা নতুন ব্যাঙের প্রজাতির নামকরণ করেছেন ডিক্যাপ্রিওর নামে। পরিবেশ রক্ষায় তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাতেই ব্যাঙটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে ‘ফিলোন্যাসটেস ডিক্যাপ্রিও’।
নতুন আবিষ্কৃত এই ব্যাঙের প্রজাতিটি ইকুয়েডরের পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য বনাঞ্চলে পাওয়া গেছে। এটি এক ধরনের ছোট আকারের বাদামি রঙের উভচর প্রাণী, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৩৩০ থেকে ১,৭০৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। গবেষকদের মতে, ‘ফিলোন্যাসটেস ডিক্যাপ্রিও’ ব্যাঙটি তার স্বতন্ত্র আঙুলের গঠন ও শরীরের আকারের জন্য অন্যান্য ব্যাঙের তুলনায় আলাদা। ইকুয়েডরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োডাইভারসিটি, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি ও সান ফ্রান্সিসকো ইউনিভার্সিটি অব কুইটোর গবেষকরা এই নতুন প্রজাতির সন্ধান পেয়েছেন। তবে এই ব্যাঙসহ আরও কিছু নতুন প্রজাতি বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। বন উজাড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, বরং তিনি একজন সক্রিয় পরিবেশবাদীও।
লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, বরং তিনি একজন সক্রিয় পরিবেশবাদীও। বহু বছর ধরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বন সংরক্ষণ এবং বিপন্ন প্রাণী রক্ষায় কাজ করে আসছেন। ইকুয়েডরের ইয়াসুনি ন্যাশনাল পার্কে তেল খনন বন্ধের পক্ষে তিনি জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ‘রে: ওয়াইল্ড’ নামে একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে বিপন্ন প্রাণী রক্ষায় কাজ করছেন। এই সংস্থার উদ্যোগে গোলাপি ইগুয়ানা, বিশালাকার কাছিম ও মকিংবার্ডসহ বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির সংরক্ষণে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণে লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তার নামে ব্যাঙের নতুন এই প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে। এটি তার কাজের প্রতি বৈজ্ঞানিক মহলের সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।