spot_img

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করল ইরান

অবশ্যই পরুন

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন তিনি। খবর প্রেস টিভির

তেহরানে ল্যাভরভের  সঙ্গে বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাঘচি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনার কোনও সম্ভাবনা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত এভাবে ‘সর্বোচ্চ চাপপ্রয়োগের’ মার্কিন নীতি বাতিল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও আলোচনা হবে না। তার কথায়, ‘‘পারমাণবিক আলোচনার বিষয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা চাপ, হুমকি বা নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোনও আলোচনা করব না।’’

এর আগে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন ইরানের জাতীয় তেল সংস্থার প্রধানসহ ইরানি তেল বিক্রয় ও পরিবহনের কাজে জড়িত অভিযোগে তেহরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রতি সর্বোচ্চ চাপপ্রয়োগের নীতি পুনরায় জোরদার করার পর সর্বশেষ ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং ইরান ও বড় শক্তিগুলোর মাঝে স্বাক্ষরিত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার তেহরান সফরে আসেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান ও মস্কোর মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার দ্রুত অগ্রগতির প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি জ্বালানি, রেলপথ এবং কৃষিতে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। ফিলিস্তিনের বিষয়ে আরাঘচি বলেছেন যে তারা গাজার বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের “অগ্রহণযোগ্য” জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সিরিয়ার বিষয়ে তিনি ইরান ও রাশিয়ার অবস্থানের ওপর জোর দেন। তার কথায়, “সিরিয়ার জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে স্থিতিশীলতা, শান্তি, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং অগ্রগতি ইরানের জন্য অগ্রাধিকার। আমরা এদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করি।”

ল্যাভরভ প্রেস কনফারেন্স চলাকালীন আরাঘচির সাথে তার “বিশদ এবং গঠনমূলক” আলোচনার বিষয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই ব্রিকসের কাঠামোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এ সময় পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার কথায়, “ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য বিনিময় ১৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।”

রাশিয়ার মন্ত্রী রাশত-আস্তারা রেলওয়ে প্রকল্পের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এটি একটি রাশিয়ান সরকারী ঋণের মাধ্যমে হচ্ছে, যা উত্তর-দক্ষিণ করিডোর প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি ভারতকে উত্তর ইউরোপের সাথে সংযোগকারী একটি বাণিজ্য পথ বলেও উল্লেখ করেছেন।

লাভরভ তেহরানের ক্যাস্পিয়ান ইকোনমিক ফোরামের সফল আয়োজনের দিকে ইঙ্গিত করে এই বছরের শেষের দিকে একটি যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিশন গঠনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সম্বোধন করে লাভরভ বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ইরানের পারমাণবিক সমস্যা সমাধানের কূটনৈতিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে, যার একটি সমাধান পাওয়া যাবে। এই সংকট ইরান তৈরি করেনি, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তার পারমাণবিক কার্যক্রম, মানবাধিকার ইস্যু এবং অন্যান্য অজুহাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই পদক্ষেপগুলো বাড়িয়েছে। তথাকথিত সর্বোচ্চ চাপ নীতি, ইরানকে লক্ষ্য করে হাইব্রিড যুদ্ধের প্রচারণা পুনঃস্থাপন করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

মাহমুদউল্লাহকে দেখে মনে হয়েছে সে ছুটি কাটাতে এসেছে: ওয়াসিম আকরাম

মাহমুদউল্লাহকে দেখে মনে হয়েছে সে ছুটি কাটাতে এসেছে! এবার এমনই এক মন্তব্য করে বসলেন পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ