spot_img

গ্লুকোমা : প্রতিরোধের উপায়

অবশ্যই পরুন

বিভিন্ন কারণেই অন্ধত্ব দেখা দেয়। কিছু অন্ধত্ব নিরাময়যোগ্য। তবে গ্লুকোমাজনিত অন্ধত্বের কোনো প্রতিকার নেই, প্রতিরোধই একমাত্র উপায়। এ কারণেই গ্লুকোমাজনিত অন্ধত্ব সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। গ্লুকোমা রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অন্ধত্বের শিকার হন অনেকেই। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে পারলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোমাজনিত অন্ধত্বের নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের আবাসিক সার্জন, ডা. জামসেদ ফরিদী।

গ্লুকোমা

অধিকাংশ সময় চোখের অভ্যন্তরীণ তরলের চাপ বাড়ার কারণে গ্লুকোমা চোখের একটি জটিল রোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়, যাতে চোখের স্নায়ু (অপটিক নার্ভ) ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধীরে ধীরে চোখের দৃষ্টি কমে যায়। এতে একসময় রোগী অন্ধত্ব বরণ করে।

গ্লুকোমা কারণ

এ রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে চোখের অভ্যন্তরীণ তরলের চাপ বাড়াই গ্লুকোমা প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে চোখের অভ্যন্তরীণ তরলের স্বাভাবিক চাপেও এ রোগ হতে পারে। সাধারণত চোখের অভ্যন্তরীণ তরলের চাপ বাড়ার কারণে ধীরে ধীরে চোখের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং দৃষ্টি ব্যাহত করে। তবে কিছু কিছু রোগের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক লক্ষ করা যায় এবং অন্যান্য কারণেও এ রোগ হতে পারে। যেমন—

১. পরিবারের অন্য কোনো নিকটাত্মীয়র (মা, বাবা, দাদা, দাদি, নানা, নানি, চাচা, মামা, খালা, ফুপু) গ্লুকোমা হলে।

২. স্টেরয়েড নামক ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন

৩. চোখের ছানি অপারেশন না করলে বা দেরি করলে

৪. চোখের অন্যান্য রোগের কার

৫. জন্মগত চোখের ত্রুটি ইত্যাদ

৬. ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ

৭. মাইগ্রেন পেইন

৮. রাত্রিকালীন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন

৯. ঊর্ধ্ব বয়স (চল্লিশ বা তদূর্ধ্ব)

লক্ষণ

বেশিরভাগ সময় গ্লুকোমায় আক্রান্ত রোগী এ রোগের কোনো লক্ষণ অনুধাবন করতে পারে না। চশমা পরিবর্তনের সময় কিংবা নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষার সময় হঠাৎ করেই চিকিৎসক এ রোগ নির্ণয় করে থাকেন। তবে কিছু লক্ষণ থেকে এই রোগের উপস্থিতি জানা যায়।যেমন—

  • দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসা বা দৃষ্টির পারিপার্শ্বিক ব্যাপ্তি কমে আসা।
  • মৃদু আলোতে কাজ করলে চোখে ব্যথা অনুভূত হওয়া।
  • ঘন ঘন চশমার গ্লাস পরিবর্তন হওয়া।
  • চোখে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে রংধনুর মতো দেখা।
  • ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে ব্যথা হওয়া।

গ্লকোমার জন্য কাদের চক্ষু পরীক্ষা জরুরি

  • যাদের পরিবারে নিকটাত্মীয়র এ রোগ আছে।
  • চল্লিশোর্ধ্ব প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বিশেষ করে যাদের ঘন ঘন চশমা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
  • চোখে যারা মাঝে মাঝে ঝাপসা দেখে বা ঘন ঘন চোখ ব্যথা কিংবা বা লাল হওয়া অনুভব করে।
  • যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেন ইত্যাদি রোগ আছে।
  • যারা চোখে দূরের জন্য মাইনাস গ্লাস ব্যবহার করে।

সর্বশেষ সংবাদ

ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই যুদ্ধাপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

গাজায় ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের শুরুর দিকে উভয় পক্ষই যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে জাতিসংঘের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি, গাজায় ইসরায়েলিদের নির্বিচারে...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ