spot_img

ছেলেমেয়ে ও নাতী-নাতনীদের সঙ্গে মহানবী (সা.) যেমন ছিলেন!

অবশ্যই পরুন

সন্তানের প্রতি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসা মানুষের সহজাত। ভালোবাসার শক্ত এ ভিতের ওপরই টিকে আছে মানবজাতি, দাঁড়িয়ে আছে মানবসভ্যতা। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার প্রপাঢ় ভালোবাসার প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘জেনে রেখো! নিশ্চয় সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি (এর মোহ ও মমতা) তোমাদের জন্য এক পরীক্ষা। ’ সূরা আনফাল : ২৮

নবী (সা.) এর সিরাত বা জীবনচরিত পুরোটাই আলোকিত।

নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)ও ছিলেন তার সন্তান-সন্তুতি ও পরিবারের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল। এবং তাদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এ প্রসঙ্গে হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর তুলনায় পরিবার-পরিজনের প্রতি অধিক স্নেহ-মমতা পোষণকারী আর কাউকে দেখিনি। ’ -আল আদাবুল মুফরাদ : ৩৭৬
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় তাঁর সন্তান ছিলেন সাতজন। তেমনি তাঁর নাতি-নাতনির সংখ্যা ছিল সাতজন ৩ ছেলে হলো- কাসেম, ইবরাহিম ও আবদুল্লাহ। আর মেয়ে ৪ জন হলো- জায়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা। ছেলেদের সবাই শৈশবে মারা যান। মেয়েদের মধ্যে হজরত ফাতেমা (রা.) ব্যতীত সবাই রাসূল (সা.)-এর পূর্বেই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। হজরত ফাতেমা (রা.)-এর দুই পুত্র হজরত হাসান ও হোসাইন (রা.)-এর মাধ্যমে রাসূল (সা.)-এর বংশের বিস্তৃতি ঘটে।

সন্তান এবং নাতি নাতনিদের সাথে কেমন ছিলো আমাদের প্রিয় নবী নিম্নে আমরা তার কিছু দৃশ্য নিয়ে আলোচনা করব—

অফুরন্ত ভালোবাসা

সন্তান জন্মের সংবাদে রাসূল (সা.) আনন্দিত হতেন। হজরত আবু রাফে (রা.) যখন রাসূল (সা.) কে তার পুত্র ইবরাহিমের জন্মের সংবাদ দেন, তখন তিনি খুশি হয়ে তাকে একজন দাস বা সেবক দান করেন।

হজরত ফাতেমা (রা.) ছিলেন নবী করিম (সা.)-এর সবচেয়ে প্রিয় কন্যা। তার ব্যাপারে নবী করিম (সা.) বলতেন, ফাতেমা আমার দেহের একটি অংশ। যাতে তার কষ্ট হয়, তাতে আমারও কষ্ট হয়। ’ -সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলী নদভি রহ., নবীয়ে রহমত, পৃষ্ঠা- ৪২৩

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সন্তানদের নাম রাখেন। শুধু সন্তান নয় নাতি-নাতনির জন্যও সুন্দর সুন্দর নাম নির্বাচন করেন তিনি। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, হাসান জন্মগ্রহণ করলে আমি তার নাম রাখি ‘হারব’। অতপর রাসূল (সা.) আসলেন এবং বললেন, আমাকে আমার নাতি দেখাও। তোমরা তার কী নাম রেখেছো? হজরত আলি (রা.) বলেন, আমি বললাম, হারব। ’ রাসূল (সা.) বললেন, না। তার নাম হাসান। ’ -মুসনাদে আহমদ : ৭৬৯।

চুমু খাওয়া ও বুকে নেওয়া

শত ব্যস্ততার মাঝেও রাসূল (সা.) তার সন্তানদের আদর-যত্ন করতেন এবং খোঁজ-খবর রাখতেন। তাদেরকে কোলে তুলে আদর করতেন। চুমু খেতেন; এমনকি তাদের শরীরের ঘ্রাণ নিতেন। নাতিকে আদর-যত্ন করা ও চুমু খাওয়া নবী (সা.)-এর সুন্নত। শিশুকে চুমু দেওয়ার দ্বারা শিশুদের প্রতি প্রিয় নবী (সা.)-এর স্নেহ-মমতার পরিচয় পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার হাসান ইবনে আলীকে চুম্বন করেন।
ওই সময় তাঁর কাছে আকরা ইবনে হাবিস তামিমি (রা.) বসা ছিলেন। আকরা ইবনে হাবিস (রা.) বললেন, ‘আমার ১০ পুত্র আছে, আমি তাদের কাউকে কোনো দিন চুম্বন করিনি। ’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দিকে তাকালেন, তারপর বললেন, ‘যে দয়া করে না, তাকে দয়া করা হয় না। ’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৫৭১)।

রাসুল (সা.)-এর কাঁধে আরোহণ

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুল (সা.) এর সঙ্গে এশার নামাজ পড়ছিলাম। রাসুল (সা.) সিজদা করলে হাসান -হুসাইন লাফ দিয়ে তাঁর পিঠে উঠত। রাসুল (সা.) সিজদা থেকে ওঠার সময় তাদের হাত দিয়ে নামিয়ে দিতেন। তিনি আবার সিজদা করলে তারাও আবার পিঠে উঠত। এভাবে তিনি নামাজ শেষ করেন। (মুসনাদ আহমদ, হাদিস : ৭৮৭৬)।

তাঁদের সঙ্গে খেলাধুলা

ইয়ালা ইবন মুররা (রা.) বলেন, একবার আমরা নবী (সা.)-এর সঙ্গে খাওয়ার এক দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে হুসাইন (রা.) খেলতে ছিলেন। নবীজি (সা.) দ্রুতগতিতে সবার আগে গিয়ে তাঁর পবিত্র হস্তদ্বয় প্রসারিত করলেন। তখন বালকটি এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগল আর নবী (সা.) তাকে হাসাতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে ধরে ফেললেন। অতঃপর আদর করে এক হাত তার চিবুকে এবং অন্য হাত তার মস্তকে রাখলেন এবং তারপর তাকে আলিঙ্গন করলেন। অতঃপর নবী করিম (সা.) বলেন, ‘হুসাইন আমার এবং আমি হুসাইনের। হুসাইনকে যে ভালোবাসে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। আর হুসাইন হচ্ছে আমার দৌহিত্রদের মধ্যে একজন। ’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩৬৫)

তাঁদের মসজিদে নিয়ে যেতেন

আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি নবী (সা.)-কে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি, ওই সময় হাসান (রা.) তাঁর পাশে ছিলেন। তিনি একবার উপস্থিত লোকদের দিকে আবার হাসান (রা.)-এর দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমার এ সন্তান (পৌত্র) সায়্যেদ (নেতা) আল্লাহ তাআলা তার মাধ্যমে বিবদমান দুই দল মুসলমানের মধ্যে আপস মীমাংসা করিয়ে দেবেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৪৭৪)।

হারাম পরিহার শিক্ষা দেওয়া

বাল্যকাল থেকেই নাতি-নাতনিকে হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, হাসান ইবনে আলী (রা.) সদকার একটি খেজুর নিয়ে মুখে দিলেন। নবী (সা.) তা ফেলে দেওয়ার জন্য কাখ কাখ (ওয়াক ওয়াক) বলেন। তারপর বললেন, তুমি কি জানো না যে আমরা সদকা খাই না? (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪০৪)

এ হলেন কোমলপ্রাণ নবী (সা.)। এ হলো শিশুদের সঙ্গে তাঁর কোমল আচরণ। তিনি বকা দেননি। কখনও প্রহার করেননি। নামাজ অবস্থায় যে শিশুটি তাঁর পিঠে চড়েছে তার ওপর গলাও উঁচু করেননি। তিনি বরং তার জন্য অপেক্ষা করেছেন। সিজদা দীর্ঘ করেছেন!

সুতরাং প্রতিটি মুমিনের জন্য দায়িত্ব হলো, জীবনের সৌন্দর্য ও সম্পদ সন্তানের প্রতি স্নেহশীল হওয়া এবং তাদেরকে কল্যাণকামিতার সঙ্গে প্রতিপালন করা।

সর্বশেষ সংবাদ

ব্যান্ড তারকা ও সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদ আর নেই

ব্যান্ড তারকা ও সংগীতশিল্পী শাফিন আহমেদ আর নেই। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ