spot_img

শিশুদের ডেঙ্গু: বাড়তি যত্নের পরামর্শ চিকিৎসকদের

অবশ্যই পরুন

রাজধানীসহ সারাদেশে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য মতে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সর্বমোট দুই হাজার ১৪৬ জন।

এছাড়া বর্তমানে দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৯৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩৫ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬৪ জন।

কিন্তু প্রতিবছর এ সময় আসলে কেন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়? এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাইরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাধারণত জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। তার মূল কারণ হচ্ছে বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি হওয়ার কারণে জায়গায় জায়গায় পানি জমে থাকে। এ জমা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এর ফলে এ সময়টা ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়।

ডেঙ্গু রোগীর লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। এসময় শরীরে একটানা জ্বর থাকতে পারে। আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারও জ্বর আসতে পারে। এর সঙ্গে শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। এমনকি চোখ দিয়ে রক্ত পর্যন্ত বের হতে পারে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগই জ্বরকে অবহেলা করেছেন। তাই কোনোভাবেই এ জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। অনেকে সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয় না। এতে করে রোগী বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

এছাড়া শিশুরা তাদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন না হওয়ার কারণে তাদের ওপর এই রোগের প্রভাব বড়দের চাইতে আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ সময়ে শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখতে পরামর্শ দিয়েছেন এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেতে পারবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

অধ্যাপক ডা. রাশেদুল ইসলাম বলেন, এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন দিনের বেশি জমা না থাকে। তাই বাড়ির ছাদে অথবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই এগুলো সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সর্বোপরি নাগরিক পর্যায়ে সচেতন হতে হবে।

এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে সরকারিভাবে সারা বছর এডিস মশার লার্ভা নিধনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্ট্যসাধ্য হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।

শিশুদরে প্রতি বাড়তি যত্ন

এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, বিশেষ করে শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। যদিও গরমকাল তারপরও শিশুদের পাতলা ফুলহাতা গেঞ্জি পরিয়ে রাখতে পারলে ভালো। যাতে করে হাতে এবং পায়ে মশা না কামড়ায়। এছাড়া শিশুদের ডেঙ্গু থেকে বাঁচাতে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের মশা না কামড়ায়।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বর্ষাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন। আর ২০২১ সালে এ রোগে মারা গেছেন ১০৫ জন এবং আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন।

সর্বশেষ সংবাদ

সন্ধ্যায় যেসব আমল করলে ভালো কাটবে সারারাত

প্রতিটি সময়েরই আমল রয়েছে। কিন্তু সব আমল জানা নেই আমাদের। তবে কুরআন-হাদিসে উল্লেখ রয়েছে আমলগুলো। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ