spot_img

রাঙামাটির আনারস দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে

অবশ্যই পরুন

এবারও আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায়। এখানকার স্বাস্থ্যসম্মত সুস্বাদু আনারস দেশের চাহিদা মিটিয়ে যায় বিদেশেও। রাঙামাটিতে এ বছর ১২শ’হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আনারসের চাষ করা হয়েছে। আনারসের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি।

বুধবার (১০ মার্চ ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আগাম জাতের আনারসে ভরপুর হয়ে উঠেছে রাঙামাটি শহরের সমতাঘাটের বাজার। চারিদিকে রসালো আনারসের গন্ধে মৌ মৌ করছে এখানকার পরিবেশ। তবে আনারসের আগাম ফলন ভাল হওয়ায় এবং ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে খুশিতে আত্মহারা পাহাড়ি বাঙালি চাষিরা।

বর্তমানে রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে ধুমধাম বিক্রি হচ্ছে আগাম জাতের আনারস। এছাড়াও শহরের বাইরে ঢাকা-চট্টগ্রামেও সরবরাহ হচ্ছে নানিয়ারচর,বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো জেলার আনারস।

গতবারের চেয়ে এবার দামও পেয়েছে অনেক বেশি। তাই চাষীরা অত্যন্ত খুশি। আনারসের রাজধানী খ্যাত পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। এখানে পাহাড়ি বাঙালি মিলে কয়েকশ’ পরিবার আনারসের চাষ করে। এ চাষ করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের বাহিরেও তারা নানিয়ারচরের আনারস পাঠাচ্ছেন। এদিকে স্থানীরা আগাম জাতের আনারস খেতে পেয়ে অত্যন্ত খুশি । স্থানীয় হাট বাজার থেকে পাইকারি ক্রয় করে এনে অনেকে ফেরি করে শহরের বিভিন্ন স্থানে খুচরা বিক্রি করছে।

চাষি ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে আনারসের প্রচুর উৎপাদন হয়েছে। সবচেয়ে অধিক উৎপাদন হচ্ছে নানিয়ারচর উপজেলায়। মৌসুমের আগেই হাটবাজারে এসেছে প্রচুর আনারস। বাজারে বড় সাইজের প্রতি জোড়া আনারস বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকায়।

তবে কৃষকদের কাছ থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনছেন মাত্র ২০-৩০ টাকায়। নানিয়ারচরসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ আনারস জেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাঙামাটির আনারস যাচ্ছে ঢাকা,শরীতপুর ও চট্টগ্রাম,টাঙ্গাইল,সিলেটসহ বাইরের জেলাগুলোতে।

চাষিরা মনে করছেন, করোনার কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গতবারের আগাম জাতের আনারসে চাষিরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এবার ভাল ফলন হওয়ায় তা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন।

নানিয়ারচর উপজেলার হাজাছড়া এলাকার বাসিন্দা আনারস বাগান চাষি শান্তি বিকাশ চাকমা জানান, এবার তিনি ৩০ হাজার আনারস চারা রোপণ করেছেন। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছে এবং ভালো দামে বিক্রিও হচ্ছে। আনারস চাষ করতে যা খরচ হয়েছে তার দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। বড় সাইজের আনারস বিক্রি করছেন জোড়া ৩০-৪০ টাকা এবং ছোট সাইজের আনারস বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকা ধরে।

রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের আরেক চাষি সোহাগ চাকমা জানান, গতবারের তুলনায় এবার আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর করোনায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যা ক্ষতি হয়েছে তা এবার পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করেন। তিনি আরও বলেন, এবার তিনি ৩০ হাজার আনারসের চারা রোপণ করেছেন।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃঞ্চ প্রসাদ মল্লিক বলেন, ২০২০ সালের গত মৌসুমে এ জেলায় আগাম আনারসের চাষ হয়েছিল ২১৩০ হেক্টর জমিতে। এবার আনুমানিক ১১০০ হেক্টর জমিতে আগাম মৌসুমি আনারসের চাষ করা হয়েছে। আগাম আনারস চাষে ফলন বৃদ্ধির জন্য এক ধরনের ভিটামিন ব্যবহার করা হয়।

তবে এই ভিটামিন মানবদেহে তেমন ক্ষতিকারক নয়। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাষিদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। জেলার প্রত্যেক উপজেলাতে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করে থাকেন।

সর্বশেষ সংবাদ

রাশিয়ায় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে জয় উদযাপন

১৯৪৫ সালের ৯ মে তারিখের সকাল রাশিয়ায় হিটলারের নাৎসি বাহিনীর পরাজয়ের দিন হিসেবে স্মরণীয়। রোববার নাৎসিদের হারানোর ৭৬ বছর...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ