spot_img

জলের গ্রাম অন্তেহরী

অবশ্যই পরুন

মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হাতছানি পযর্টকদের এখানে বারবার টেনে। এ জেলার সাতটি উপজেলায় রয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা জলপ্রপাত, সবুজ গালিচার অপূর্ব চা বাগান, লাউয়াছড়া ও মাধবকুন্ড ইকোপার্ক, বিশাল হাকালুকি হাওরসহ ছোটবড় হাওর বাঁওড় আর মিঠাপানির মৎস্য ভাণ্ডার। এখানে আরও রয়েছে নদ-নদী, নানা জাতের বৃক্ষরাজী, জলাবন।

কি নেই এ জেলায়? শুধু চোখ দিয়ে দেখা যাবে প্রকৃতি যেন দু’হাত দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছে গোটা জেলাকে। তাইতো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছোটে আসেন হাজার হাজার দেশি বিদেশি পযর্টক। সিলেট বিভাগের অন্য তিনটি জেলার মতো মৌলভীবাজারে প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধ রুপের সাথে রয়েছে প্রতিটি ধর্মের আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান যা ধর্মপ্রাণ মানুষকে এ বিভাগে আসতে আকৃষ্ট করে।

তেমনি অদেখা একটি জলের গ্রাম মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার অন্তেহরী। বছরের প্রায় ৭-৮ মাস এ গ্রামটির মানুষ পানিবন্দি থাকেন। যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি তার মধ্যে ছবির মতো ভেসে আছে ছোট ছোট গ্রাম। অনেক পর্যটকের কাছে এই জলের গ্রামটি এখনো রয়ে গেছে অচেনা অজানা। রাজনগর উপজেলার কাওয়াদীঘী হাওড়ের কোল ঘেষে জলের গ্রাম অন্তেহরীর অবস্থান।

গ্রামটি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এ জেলার সাবেক জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরীন ও এডিসি (রাজস্ব) মল্লিকা দে। জেলা প্রশাসনের আগ্রহে স্থানীয় এমপি নেছার আহমদ এ গ্রামটি ঘুরে দেখার জন্য একটি আধুনিক নৌকা ঘাট নির্মাণ করে দিয়েছেন। চলমান রয়েছে আরো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

বছরের বেশিটা সময় জলমগ্ন এ গ্রামটি বাংলাদেশের অন্যান্য গ্রাম থেকে অনেকটা আলাদা। পুরো গ্রাম যেন পানির ওপর ভাসছে। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে নানান প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ যেন অন্য ধরনের মনমুগ্ধকর দৃশ্য।

অন্তেহরী গ্রামে আছে সোয়াম ফরেস্টে হিজল-তমাল-করছসহ বিভিন্ন গাছগাছালি। এ গ্রামের আশপাশের অনেকগুলো গ্রামে জলাবন রয়েছে। দুচোখ জুড়িয়ে যায় এ গ্রামগুলো দেখে। কোনো গাছের অর্ধেকটা ডুবে আছে সেই পানিতে। আবার কোথাও চোখে পড়বে মাছ ধরার জাল টানছে জেলেরা। মাঝেমধ্যে গাছের ডালপালা আটকে দেবে পথ। ওগুলো সরিয়ে নৌকা চলার পথ তৈরি করতে হবে। সেই বনের গাছের ডালে বাসা বেঁধেছে নানা প্রজাতির পাখি। গ্রামটি পানির নিচে থাকলেও ছোট একটি বাজার আছে অন্তেহরীতে। সেই বাজারে ডিঙি নৌকা নিয়ে এসে জড়ো হন আশপাশের গ্রামবাসী।

যেভাবে এ অনিন্দ্য সুন্দর গ্রামটি দেখতে যাবেন দেশের যেকোন স্থান থেকে বাসে মৌলভীবাজার আসতে পারেন বা ট্রেনে শ্রীমঙ্গলে এসে সেখান থেকে বাসে ৩০-৪০ টাকা দিয়ে মৌলভীবাজারে আসতে পারেন। মৌলভীবাজার শহরের চাদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় কাদিপুরে যেতে ভাড়া নেবে ৩৫ টাকা। সেখানে নেমে ২-৩ ঘণ্টার জন্য নৌকা ভাড়া নেয়া যাবে ৩শ থেকে ৫শ টাকায়। আর ঘুরে দেখা যাবে জলের গ্রাম অন্তেহরী।

সর্বশেষ সংবাদ

মিষ্টি নিয়ে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়িতে গেলেন জুন মালিয়া!

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি তৃণমূল রাজনৈতিক রেষারেষি মধ্যেই বুধবার মেদিনীপুর কেন্দ্রে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত প্রার্থী শমিত দাসের বাড়িতে ফুল ও মিষ্টি...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ