36 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২০

ছুটি (কোভিড-১৯ সংস্করণ)

অবশ্যই পরুন

করোনায় মা’রা যাওয়া দুদক পরিচালকের স্বজন বলে দিলেন করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার টোটকা

করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে হানা দিয়েছে প্রায় ১ মাসের বেশি হয়ে গেল। আর এই এক মাসের মধ্যে করোনা বেশ ছড়িয়েছে...

রাশিয়ায় বাড়ছে করোনা, সামরিক বাজেট ব্যবহারের নির্দেশ পুতিনের

বিশ্বে করনোভাইরাসের মারাত্মক হানার মধ্যেও রাশিয়ায় শুরুতে খুব বেশি প্রভাব দেখা দেয়নি। তবে সম্প্রতি দেশটিতে ভয়ংকর আকার নিতে শুরু...

সিঙ্গাপুরে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড

বুধবার একদিনে সিঙ্গাপুরে ৪৪৭ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রে একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক করোনা...

ফ্যামিলি বাইকার হয়ে উঠার পিছনের গল্প

আজকে আমি পরিচয় করিয়ে দিবো আমার ফ্যামিলি বাইকার হয়ে উঠার পিছনে অন্যতম সাহায্যকারী আমার বৌ Sharmin Upoma কে। সে শুধু...
বালকদিগকের সর্দার ফটিক চক্রবর্তীর মাথায় চট করিয়া একখানা নতুন ভাবোদয় হইলো। নদীর ধারে একতলা টিনশেডের বাসায় থাকা বি-বাড়িয়ার অধিবাসী কাকাবাবুর নাম ঠিকানা ব্যাবহার করিয়া দারাজ হইতে ডায়াপার এবং কিছু অপ্রয়োজনীয় পন্য কিনিয়া ইনভয়েস করিবে। ইহাতে বি বাড়িয়া অধিবাসী কাকাবাবুর যে কতখানি বিরক্তি এবং অসুবিধা হইবে তাহা উপলব্ধি করিয়াই বালকেরা এ প্রস্তাবে সম্পূর্ণ অনুমোদন করিলো। সকলেই তাহাদের এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন বাহির করিয়া দারাজ এপে ডায়াপারসহ আরো কিছু টুকিটাকি অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুঁজিতে লাগিয়া গেলো। বালকদিগকের সর্দারের কথায় যখন সবাই জিনিসপত্র দারাজ এপের কার্টে রাখিতে ব্যাস্ত, ঠিক তখনই ফটিকের কনিষ্ঠ, মাখনলাল আসিয়া বাধ সাধিলো। কারন মাখন সদ্য পাশ হওয়া আইসিটি আইন সম্পর্কে বেশ ভালোভাবেই জ্ঞাত রহিয়াছে যে উহাতে কিরুপ কঠিন থেকে কঠিন্তর শাস্তি প্রদান করা হইয়া থাকে। ইহা ব্যাতীত বি বাড়িয়ার কাহারো পশ্চাদদেশে কাঠি করাটা কোন ভালো সিদ্ধান্ত বলিয়া মনে করাটাও বোকামী বলিয়াই সাব্যস্ত হইবে। তাই সে তীব্র প্রতিবাদ জানাইয়া এর ওর মোবাইলের উপরে আচমকা হামলা করিতে লাগিলো। ফটিক আসিয়া ধমক দিয়া বলিলো,
 
: যা ফুট, তুই না থাকলে নাই। তোরে ছাড়াই দেখুম
 
মাখন কোন অবস্থায় তাহারও সিদ্ধান্ত হইতে সরিলো না।
 
‘বি বাড়িয়া’কে গালি দিলেই মামলা।’ এই চিন্তা হইতে সে নিজেকে নিবৃত্ত করিতে পারিলো না।
 
দারাজ এপ লহিয়া সবাই যখন অপ্রয়োজনীয় বস্তুর তালিকা প্রস্তুত করায় ব্যাস্ত, ফটিকের উচিত ছিল অনতিবিলম্বে মাখনলালের কপোলে কষাইয়া চড় দেওয়া, কিন্তু সহসাই সে সাহস ফটিক চক্রবর্তী দেখাইলোনা। যেন ইচ্ছা করিলেই এখনি উহাকে শাসন করিতে পারিবে কিন্তু করিলো তা না। কারন পূর্বাপেক্ষা আরো একখানা উত্তম বুদ্ধি তাহার মাথায় উদয় হইয়াছে। ফটিক প্রস্তাব করিল,
 
: এই ইনভয়েসের নিচে অতিরিক্ত মুঠোফোন নাম্বার হিসেবে ‘মাখনলাল’ এর মুঠোফোনের নাম্বার লেখিয়া দিতে হইবে!
 
প্রস্তাব শুনিয়া বালকেরা হৃষ্ট হইয়া উঠিলো। কিন্তু মাখন তৎক্ষণাৎ লাফ দিয়া উঠিয়া অন্ধভাবে ফটিক ও উহার সাঙ্গপাঙ্গকে এলোপাথাড়িভাবে আক্রমন করিতে লাগিলো। অতঃপর, পরিকল্পনার কোথায় যেন জল ঢুকিয়া পরী উড়াইয়া নিয়া শুধু কল্পনাটুকুই অবশিষ্ট রাখিয়া চলিয়া গেলো!
 
গলির মোড়ের দোকান হইতে ফটিক ছয় টাকার গ্লো স্টিক কিনিয়া বসিয়া লেহন করিতে লাগিলো, আর আজিকের এই ঘটনার ফলে তাহার মনে যে ভাবের উদয় হইয়াছে, উহা এক আবেগঘন টুইট বার্তার মাধ্যমে প্রদান করিলো। টুইট করিতে করিতে ফটিক’র নেত্রকোনায় কিঞ্চিৎ জলও আসিয়া গড়াইয়া পড়িল।
এমন সময় একটি অর্ধবয়সী কাঁচাপাকা কিঞ্চিত চাপদাঁড়িওয়ালা ভদ্রলোক আসিয়া জিজ্ঞেস করিলেন।
 
: Hey buddy, where is Chokroborty’s home? Opps! ওহে বালক, চক্রবর্তীদের নিবাস কোথায়, অনুগ্রহ করে আমায় বলবে কি?
 
প্রথমে কিঞ্চিত ইংরেজী বাক্য শুনিয়া ফটিকের মাথায় আবারও কিঞ্চিত দুষ্টবুদ্ধির উদয় হইলো এবং ফটিক গ্লো স্টিক লেহন করিতে করিতে বলিলো,
 
: উজ্ঞো ম্যান!
 
কিন্তু কোন দিকে দেখাইলো, তা কাহারো বুঝিবার সাধ্য রহিল না।
ভদ্রলোক বিরক্ত হইয়া চলিয়া গেলেন এবং সম্ভবত গুগল ম্যাপের সাহায্য লহিয়া বাড়ি খুঁজিতে লাগিলেন। এমন সময় ফটিকের মোবাইলে তাহার মায়ের ফোন আসিল। অনতিবিলম্বে তিনি ফটিককে গৃহে তলব করিয়াছেন। ফটিক মনে মনে ভাবিলো, আজ বুঝি তাহার খবরই রইয়াছে! ঘরে ফিরিতেই ফটিক মায়ের হুংকার,
 
: বাঘে ছুলে এক ঘা, পুলিশ ছুলে আঠারো ঘা, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবেনা। প্রশাসন কারো রক্তচক্ষু ভয় পায়না!
 
ইহা শুনিয়া ফটিক হাঁপ ছাড়িয়া বাঁচিলো। যাক, এইবারের মতো তবে রক্ষা পাওয়া গেলো! এমন সময় সেই কাঁচাপাকা দাড়িওয়ালা আধবুড়া ভদ্রলোকটি গৃহে প্রবেশ করিলেন। ফটিক জানিতে পারিল আধবুড়ো এই ভদ্রলকের নাম বিশ্বম্ভর বাবু, সম্পর্কে তার মামা হন। দীর্ঘদিন পাকিস্তানে ছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকর হইবার পরে তাহাকে বাংলাদেশে প্রেরন করিয়াছে সেদেশের সরকার।
 
মামার আগমনে কয়েকদিন অতিশয় আনন্দেই কাটিলো। অবশেষে বিদায় লহিবার দু-একদিন পূর্বে বিশ্বম্ভর বাবু তার ভগিনীকে ছেলেদের পড়াশোনা এবং মানসিক উন্নতি সম্বন্ধে প্রশ্ন করিলেন, যাহার উত্তর বেশ হতাশাব্যাঞ্জক। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যুগে বালতিভরা বিবিএ, এমবিএ’র সময়েও ফটিকের স্নাতক সম্মানে অধ্যয়নের বিষয়টিও মোটেও সম্মানজনক নহে। তদুপরি ফটিক’র মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল মিলাইয়া যে জগাখিচুড়ি হইয়াছে ইহার দরুন তাহার ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়য়ে আবেদন করিবার সুযোগই ঘটে নাই! শুনিয়া বিশ্বম্ভর বাবু প্রস্তাব করিলেন, তিনি ফটিককে ঢাকা লহিয়া গিয়া নিজের কাছে রাখিয়া কোন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়া অন্ততপক্ষে বিবিএ কিংবা প্রকৌশলের কোন বিদ্যায় শিক্ষা দিবেন। ফটিক ও ফটিকের মা উভয়ই এককথায় এ প্রস্তাবে রাজী হইলেন। মাখনও কম পুলকিত হইলো না ইহাতে।
 
উহার পর থেকে ফটিক আনন্দে বিনিদ্র রজনী যাপন করিতে লাগিলো। অবশেষে ঢাকা যাইবার পূর্বরাত্রে টুইটারে ঢুকিয়া টুইট বার্তা ঠুকিলো,
“Yo Dhaka! I’m on my way! lol.”
এমন আবেগঘন টুইটে অনেক কমেন্ট আসিলো। Ripon Video লিখিলো
Go ***k yourself!
 
ঐ কমেন্টে মাখনলাল সহ আরো তেরো জন বুড়া আঙ্গুল উঁচা করিলো। অবশেষে যাত্রাকালে অতি আনন্দের সহিত ফটিক তাহার টু জি ইন্টারনেট মোডেম ও পেন্টিয়াম টু মানের পুরাতন কম্পিউটারখানা পুত্রপৌত্রাদিক্রমে মাখনকে ভোগদখল করিবার সম্পুর্ণ অধিকার দিয়া ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ গৃহ হইতে প্রস্থান করিলেন।
 
ঢাকায় মামাবাড়ি পৌছাইয়া ফটিকের সহিত তাহার মামির প্রথম আলাপ হইলো! তিন তিনটি ছেলে লইয়া মামি এমনিতেই সর্বদা আতংকে থাকিতেন, তাহার উপরে উনিশ-বিশ বছর বয়সী আরেকটি ছেলের আগমন মামির চিন্তার নদীতে হাঙ্গরের উপদ্রবের ন্যায় হানা দিলো। কারন এই বয়সীদের মতো বিচ্ছু পোলাপাইন আর হয়না। আবেগের বশবর্তী হইয়া, অল্পবয়সী মেয়েদের পিছে ঘুরাঘুরি এবং বিভিন্নরকম বাঁন্দরামি কাজে এদের জুড়ি মেলা ভার। তাছাড়া এই বয়সের ছেলেদের ডাকাত বা ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটাইয়া মারিতে জনতার আগ্রহের কমতি নাই।
 
অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ফটিক নামকাওয়াস্তে এক অখ্যাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিদ্যায় ভর্তি লহিয়া ফেলিলো। একে তো প্রকৌশলের কঠিন বিদ্যা, এর উপরে শহুরে মেয়েদের পোশাক-আশাক এবং চালচলন দেখিয়া ফটিকের জন্য নিজ পাঠে মনোনিবেশ করা বেশ কষ্ঠসাধ্যই হইয়া পড়িলো।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে ফটিকের তো কোন বন্ধু-ই ছিলোনা, বান্ধবি তো যোজন যোজন দূরের চিন্তা! কোন মেয়ে তাহার দিকে এক পলকের জন্য তাকাইলে, সে উহার নিকট আত্নবিক্রিত হইয়া পড়িত। কালের বিবর্তনে দ্রুত ফটিকের এক বন্ধু জুটিয়া গেলো। উহার নাম ছিল ‘জ্যাকি’! যদিও মাতাপিতা বহুত আদর করিয়া, শখ করিয়া তাহার নাম রাখিয়াছিলো জাকির। ঢাকায় আসিয়া যুগের সাথে তাল মিলাইতে সে তাহার নিজের নাম পরিবর্তন করিয়া রাখিয়াছিলো জ্যাকি। জ্যাকির ছিলো একটি ইউটিউব চ্যানেল। সেখানে সে বিভিন্নরকমের অপ্রয়োজনীয় পন্যের রিভিউ প্রদান এবং বিভিন্ন বদমাইশি ভিডিও প্রকাশ করিতো। ইউটিউব চ্যানেলটি মনোটাইজ করা থাকলে তাহার দরূন তা হইতে কিঞ্চিত অর্থ আসিবে যা জ্যাকি ফটিক’কে বুঝাইয়াছিলো যা দেখিয়া এবং বুঝিয়া ফটিক মনে মনে লেখাপড়ার সহিত ব্যাবসা করার কথা ভাবিলো।
 
জ্যাকি’র সহচর্যে আসিয়া ফটিকের দ্রুত পরিবর্তন ঘটিতে থাকিল। অল্প কয়েকদিনেই ফটিক বেশ কিছু শহুরে মাদকে অভ্যস্ত হইয়া গেলো। গ্রামে এসব মাদকের অপ্রতুলতা তাহাকে নতুন স্বাদে আগ্রহী করিয়া তুলিতে বেশি সময় লাগিলো না। মাদকের সহিত তাহার বেশভুশা বদলাইয়া ইয়ো ইয়ো ভাব চলিয়া আসিতে শুরু করিল। এবং অল্প কয়েকদিনেই ক্লাসে তার বেশ কতক ফ্যাশন ফালু টাইপ বন্ধু-বান্ধপিও জুটিয়া গেলো।
 
গঞ্জিকা হইতে অন্যান্য তরল নেশা জাতীয় দ্রব্য ও ‘বাবা’ সেবনে অভস্ত্য হইতে ফটিকের খুব বেশি একটা সময় লাগিলো না। এরপরে ফটিক চক্রবর্তী’কে ঢাকার ফার্মগেট, এয়ারপোর্ট রেললাইনের ধারেকাছে বিনিদ্র রজনী অতিক্রান্ত করিতেও দেখা গিয়াছে। মামার গৃহে প্রকৌশলের কঠিন তত্বের দলগত অধ্যায়নের নিমিত্তে বন্ধুর আবাসস্থলে রাত্রীকালীন অবস্থান করিতেছে বলিলেও, মনের ভেতরে যে অন্য বাসনা লালন করিয়া ফটিক এহেন কর্ম সাধন করিয়াছিলো তা বলাই বাহুল্য। পড়ালেখা বহুদিন পুর্বে শিকেয় তোলা হইয়া গিয়াছে তাহার, তাই হাতখরচের সম্পুর্ন অর্থ বর্তমানে অনর্থ কার্যেই ব্যাবহৃত হইতে থাকিলো। এইভাবে ফটিকের দিনরাত্রি ভালোই চলিতে লাগিলো বটে কিন্তু তাহার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বন্ধু জ্যাকির ইউটিউব চ্যানেল দেখিয়া মনের ভিতরে যে সুপ্ত বাসনার উদ্রেগ হইয়াছিলো তাহা সুপ্ত রাখিতে ফটিক’কে বেশ বেগ পাইতে হইলো। কিন্তু ব্যাবসা নামক কার্যের জন্য যে প্রয়োজন নগদ অর্থের তাহার উৎস কোথা হইতে আসিবে তাহা সে জানিতো না। একবার সে তাহার প্রকৌশলের পুস্তক হারাইয়া গিয়াছে বলিয়া মামার নিকট নগদ অর্থ সহায়তা চাহিলো। কিন্তু সে গুড়ে বালি দিয়া তাহার মামী তাহার মুখের উপরেই বলিয়া উঠিলো “বেশ করেছো। আমি তোমাকে মাসের মধ্যে পাঁচবার করে বই কিনে দিতে পারি নে।“ টাকা পাওয়ার আশা বিফলে চলিয়া গেলো।
 
হাতখরচের অর্থের টাকায় নেশা ভালোমতো চলিলেও ব্যাবসার অর্থযোগাড়ের চিন্তায় ফটিক চিন্তিত হইয়া পড়িলো। ব্যাবসার চিন্তা করিতে করিতে ইতোমধ্যে দেশে আসিলো এক মহামারী করোনা ভাইরাস! শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য বেশ কিছু বেসরকারী অফিস আদালত ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষনা করা হইয়াছে। ফটিকের বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষনা করা হইয়াছিলো বহু পুর্বেই। এহেন অবস্থায় মামা বলিলেন,
 
: কি রে ফটিক, এই অবস্থায় ঢাকায় থেকে কি করবি? বাড়ি যাবি না?
 
প্রতুত্তরে ফটিক বলিলো,
 
: পড়াশোনার ব্যাপক চাপ মামা, এসাইনমেন্ট, সিটি, মিডটার্ম, ফাইনাল, তত্ব, গর্ত কতো কি ঝামেলা মামা!
 
এই ভাব লহিয়া ফটিক ঢাকাতেই পড়িয়া রহিলো। পড়ালেখার কথা বলিয়া ফটিক ঢাকায় পড়িয়া রহিলো বটে, তবে ঢাকা শহর লকডাউনের পুর্বেই সে তার সমস্ত পাঠ্যপুস্তক নীলক্ষেতে বিক্রয় করিয়া আসিয়া ব্যাবসার নিমিত্তে প্রয়োজনীয় অর্থ যোগাড় করিয়া ফেলিলো। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলিয়া যাওয়াতে সরকার বাধ্য হইয়া ঢাকা শহর লকডাউন ঘোষনা করিলো। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দ্রব্যমূল্য উর্ধগতি আর চিকিৎসা সরঞ্জাম, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ, জীবানু নাশক ইত্যাদি বস্তু দুর্লভ হইয়া যাইতেছিলো। ফটিক মনে মনে ভাবিলো ইহাই মোক্ষম সুযোগ। সে তাহার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সকল আকাম-কুকামের সাক্ষী জ্যাকি’কে হোয়াটসএপ করিলো যে, দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধগতি এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার এ সুযোগ যেকোন মূল্যে কাজে লাগাইতেই হইবে। তাহারা মনে মনে ফন্দি আঁটিল যে এই আপদকালীন মুহুর্তে যেহেতু মানুষের ভিতরে বর্তমানে করোনা নিয়ে সচেতনতা এবং জ্ঞান কম তাই তাহারা করোনা’র জন্য হোমিওপ্যাথিক মহৌষধ বিক্রি করিবে। যেই ভাবা সেই কাজ। সেই অনুযায়ী তাহারা তাহাদের মোবাইল ক্যামেরায় কিছু ভিডিওচিত্র ধারণ করিলো সেখানে পুদিনা, লবঙ্গ, আদাজল ইত্যাদি দ্বারা করোনার শতভাগ সফল চিকিৎসা হবে এমন তথ্য দিয়া জ্যাকির ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করিলো। জ্যাকি’র ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার, ভিউ গেল বেড়ে। ফটিক এবারে ভাবিলো, ইহা হইতে আর ভালো সুযোগ আসিবে না, এই ছোট্ট জীবনে। ফটিক এইবারে জ্যাকি’কে বলিলো,
 
: ঢের হয়েছে, আর না, এইবার আমাদের কিছু একটা করতেই হবে!
 
ফটিক ভাবিলো এবারে করোনার মহৌষধ বিক্রয় এবং বিপনন করিবার উপযুক্ত সময় আসিয়া গিয়াছে! তাহারা ভাবিলো ইউটিউব এবং ফেসবুকের পোষ্ট বুষ্ট করিয়া তাহাদের পন্য বিক্রয় করিবে। সতর্কতাস্বরুপ তাহারা তাহাদের অবস্থান লুকাইতে, গুগল ক্রোম ব্রাউজারে ভিপিএন স্থাপন করিয়া লইলো। বিকাশের মাধ্যমে অগ্রীম টাকা লইয়া পাঠাও পার্সেল সার্ভিসে তাহাদের এই মহৌষধ প্রেরন করিবে এই মর্মে তাহারা তাহাদের বিজ্ঞাপনের প্রচারও শুরু করিলো। সে অনুযায়ী তাহারা নাহিদের সহযোগীতায় ভুয়া নাম ঠিকানা দ্বারা একখানা বিকাশ একাউন্ট খুলিয়াও ফেলিলো। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করিতে তাহারা কিছু অশ্ব-গেজ ভগন্দর রোগীকে নগদ অর্থের বিনিময়ে তাহাদের মুখ দিয়া বলাইলো, যে তাহারা এই হোমিওপ্যাথির এই মহৌষধ সেবন করিয়াই করোনা নামক মহামারীর হইতে সুস্থ্য হইয়াছেন, এসব আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি’র সেবা বলিতে আসলে কিছুই নাই, এসব ভুয়া, ফালতু। যেহেতু তাহাদের চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার এবং ভিউ ভালোই ছিলো অতএব, এসব ভিডিও ইউটিউবে আপলোডের ফলশ্রুতিতে তাহাদের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব-এ অসংখ্য বার্তা চলিয়া আসিলো যে অনেকেই এই মহৌষধ ক্রয় করিতে আগ্রহী। করোনা মহামারী হইলেও অল্প কয়েকদিনের ব্যাবধানেই তাহারা এই প্রতারনার রমরমা ব্যাবসা তাহাদেরকে আঙ্গুল ফুলাইয়া কলাগাছে পরিণত করিলো। একদিন প্রত্যুষে তাহাদের ইমেইলে একটি বার্তা পাইলো, যে কলিকাতা হারবাল তাহাদের মহৌষধের গোপন প্রস্তুত প্রণালীর স্বত্ব কিনিয়া লইতে আগ্রহী। ফটিক এইবারে ভাবিলো, তাহাদের কপাল বুঝি এবারে খুলিয়াই গেলো। তাহারা তৎক্ষণাৎ ইমেইলের প্রত্যুত্তরে তাহাদের প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে তাহাদের গোপন প্রস্তুতপ্রণালী বিক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করিয়া মোলাকাতের আশাবাদ ব্যাক্ত করিলো। অতঃপর, নিদ্দিষ্ট দিনে ফটিক এবং জ্যাকি দুইজনেই মুখে বাজারের থলে কর্তন করিয়া বানানো কালো মাস্ক পরিধান করিয়া মহাখালী আমতলী বাসস্ট্যান্ড এ ফ্লাইওভার এর নিচে অবস্থায় লইয়া অপেক্ষা করিতে থাকিলো। যেহেতু তাদের ইহা একটি প্রতারণার ব্যাবসা তাই তাহাদের কৌতহলী চোখ এদিক ওদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখিতে থাকিলো। হটাত তাহাদের দৃষ্টির সীমানায় ধরা পড়ে যে র‍্যাবের একটি মাইক্রো বাস তাহাদের অভিমুখে সজোরে সাইরেন বাজাইতে বাজাইতে আসিতেছে। জ্যাকি বুঝিলে খারাপ সময় অত্যাধিক সন্নিকটে। হাতের সিগারেট ফালাইয়া জ্যাকি বলিয়া উঠিলো,
 
: ফটিক’রে দৌড়া, র‍্যাব আইলো।
 
বলিয়াই উসাইন বোল্ট হইতেও ক্ষিপ্র দিলো ভো-দৌড় দিয়া বনানী চেয়ারম্যানবাড়ীর কাছে বিলীন হইয়া গেলো। অতঃপর র‍্যাবের সদস্য এবং ফটিকের ভিতরে এক প্রীতি দৌড় প্রতিযোগীতার আয়োজন সম্পন্ন হয় যাহার সাক্ষী হয় উপস্থিত পথচারীবৃন্দ। দিনের পর দিন নেশা করিতে করিতে ফটিক এমনিতেই দুর্বলভুজা ছিল, তাহার উপরে এমন একখানা ম্যারাথন দৌড়ের ফলে খোঁড়া রাস্তার এবড়োথেবড়ো পথে ফটিক অকস্মাৎ ভুপতিত হইয়া গেলো। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগীতা করার জন্য মুহূর্তেই রাজধানী ঢাকা শহরের অর্ধেক উৎসুক জনতা জড়ো হইয়া পড়িল। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করিতে পারিয়া হিরো আলম বনে যাওয়া জনতার চোখে মুখে আনন্দের অভিব্যাক্তি ফুটিয়া উঠিল। উৎসুক জনতার ফটিককে কব্জা করিতে খুব বেশি একটা সময় কিংবা বেগ পাইতে হইলো না। জনতার হাতে ধৃত হইবার পরে জনতা মাইরের থেকে একশ্যান বেশি দেখাইতে চাইলে উপস্থিত র‍্যাবের উর্ধতন এক কর্মকর্তা বাংলা সিনেমা’র সংলাপ “আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না!” বলিয়া উত্তেজিত উৎসুক জনতাকে শান্ত করিলেন। অতঃপর সনি চ্যানেলের সিআইডি সিরিয়াল দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া হৃষ্টপুষ্ট এক র‍্যাব সদস্য ফটিককে, দয়া (উর্ধতন পরিদর্শক, সিআইডি, সনি চ্যানেল) কায়দায় এক চটকানা দিলেন। ২৫০কেজী ওজনের একখানা চটকানা খাইয়া, দুর্বলভুজা ফটিক শুধু একটি কথা বলারই সুযোগ পেলো,
 
: এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।
 
লেখক: শেখ মুস্তাকীম হাসান
ইমেইলঃ mhasan08@yahoo.com

সর্বশেষ সংবাদ

বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৬৫ লাখ

বিশ্বে করোনায় মোট আক্রান্ত ৬৫ লাখ ১৪ হাজার ২৩ জন। গত কয়েকদিনের তুলনায় মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। গত...

মাঠে ফিরছে ক্রিকেট, ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সূচি চূড়ান্ত

জুলাইয়ে নিজেদের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১ দিনের মধ্যে ৩ টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। ম্যাচগুলো হবে ক্লোজড ডোর বা দর্শকবিহীন মাঠে। এমনটাই ঘোষণা...

কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসল চেহারা’ বেরিয়ে এসেছে: খামেনি

মার্কিন পুলিশের হাতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক হত্যার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আসল চেহেরা বেরিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। আলজাজিরা জানায়,...

বাংলাদেশ আম্পান ও করোনা মোকাবেলায় অন্যদের শিক্ষা দিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্য দেশকে শিক্ষা দিতে পারে বলে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,...

করোনামুক্ত হলেন ভোক্তা অধিকারের শাহরিয়ার

অবশেষ করোনা থেকে বেঁচে ফিরলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার। চতুর্থবারের নমুনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ...

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ